শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর পরিবারের উপর হামলা করে ঘরবাড়ি লুটপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ আকবর সিকদার নামে একজনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
হামলায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ সিকদার তাঁর ছেলে আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
লুটপাটের ঘটনাটি বুধবার ভোরে উপজেলার চরভাগা ইউনিয়নের মধ্য ঢালীকান্দি এলাকায় ঘটেছে। এর আগে গত সোমবার সকালে তাদের উপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় আহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ সিকদার বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন চরভাগা ইউনিয়নের মধ্য ঢালীকান্দি গ্রামের মৃত হজরত আলী সিকদারের ছেলে জব্বার সিকদার (৪৫),আকবর সিকদার (৪২),খালেক সিকদার (৬০), খালেক সিকদারের ছেলে আফজাল সিকদার (৩৭), তৈয়ব আলী সিকদার (৪০), জব্বার সিকদারের ছেলে সাকিব সিকদার(২১), সালমান সিকদার (১৯), ও কুলসুম বেগম, মাহমুদা বেগম,নাবিলা সিকদার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরবাগা ইউনিয়নের মধ্য ঢালীকান্দি এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ সিকদারের সঙ্গে প্রতিবেশী জব্বার সিকদারের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে রশিদ সিকদারের ছেলেরা বাড়িতে এলে গত রোববার বিকেলে তাঁদের ফসলি জমি মাপজোখ করতে যান। সেখানে জব্বার সিকদার তাঁদের বাধা দেন। এ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। সেসময় ঘটনাটি রশিদের সন্তানেরা পুলিশকে জানান। গত রোববার রাতে সখীপুর থানার পুলিশ বিষয়টির খোঁজ নিতে ওই এলাকায় যায়। এতে ক্ষুব্ধ হন জব্বার সিকদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এর জের ধরে সোমবার সকালে জব্বার সিকদার ও তাঁর লোকজন নিয়ে রশিদ ও তাঁর ছেলেদের ওপর হামলা করেন। পরে রশিদ সিকদারকে তাঁর সন্তানেরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতেল আনেন চিকিৎসা করানোর জন্য। সেখানে রশিদ ও তাঁর ছেলে আলমগীর হোসেনকে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রশিদ সিকদারকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক। এবং ওই ঘটনায় আহত জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার ভোরে আবারও ওই মুক্তিযুদ্ধার বাড়ীতে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ সিকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জব্বর শিকদারের সাথে আমার জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এর জের ধরে ঈদের দিন ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি আসার পথে জব্বার শিকদার এবং তার লোকজন আমার উপর হামলা চালায়। এসময় আমার চিৎকারে সন্তানেরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারাত্মকভাবে আঘাত করে । আমরা বিষয়টি সাথে সাথে থানায় জানাই ।পুলিশ এসে বিষয়টি দেখে। এরপর আমরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। আমার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয় । আমি এখন পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি আছি । আমার পরিবারের সবাই আমার সাথে ঢাকায় অবস্থান করায় এই সুযোগে আজকে সকালে আমাদের প্রতিবেশী জানায় যে আমাদের বাড়ির ভিতর ঢুকে ঘরের তালা ভেঙ্গে জব্বর শিকদারের লোকেরা লুট করে নিয়ে যায়। আমি মামলা করেছি। এই হামলার সঠিক বিচার দাবি করছি।
মারধরের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে জব্বার সিকদারের বাড়ীতে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায় নি।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, ‘এক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এই অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।