নিজের বিয়ে ভাঙতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার ছাত্রলীগ নেতা, মুচলেকা দিয়ে মুক্তি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিজের বিয়ে ভাঙতে গিয়ে গণধোলাইয়ে শিকার হয়েছেন শরীফ মাহমুদ সান নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। বিয়ের শেরওয়ানী আগুনে পুড়িয়ে ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর রেখে মুচলেকা নিয়ে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে ছেড়ে দিয়েছে এলাকাবাসী।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেলে উপজেলার বাশতৈল ইউনিয়নের কটামারা গ্রামে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শরীফ মাহমুদ সান উপজেলার উত্তর পেকুয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম। জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা শরীফ মাহমুদ সানের কটামারা গ্রামের একটি মেয়ের সঙ্গে এক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। দুই পরিবারের সিদ্ধান্তে বিয়ে রেজিস্ট্রিও হয়। অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক থাকায় বিয়ে না করতে নানভাবে টালবাহানা করতে থাকেন তিনি। একপর্যায় গতকাল বুধবার শরীফের বিয়ের দিন ধার্য হয়। তিনি গোপনে বিয়ে ভাঙার ফন্দি করেন। দুপুরে বরযাত্রী কনের বাড়িতে যায়। খাওয়া শেষে শরীফ মাহমুদ সান মোবাইল ফোনে কাকে যেন বলেন, খাওয়া শেষ, প্রশাসনের লোকজন আসে না কেন? কনেপক্ষের এক লোক এ কথা শুনে ফেলেন। তিনি বাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হৈচৈ পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন বরসহ কয়েকজনকে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে এবং বরের পড়নের শেরওয়ানী খুলে আগুনে পুড়ে ফেলে ক্ষুব্ধ লোকজন।

পরে স্থানীয় মাতব্বর এবং দু’পক্ষের লোকজন সন্ধায় বিষয়টি নিয়ে সালিশে বসেন। সালিশে আলোচনা সাপেক্ষে দুই পক্ষই বিয়ে না হওয়ার ব্যাপারে একমত হন। বিয়ের দেনমোহর ও খোরপোশ বাবদ কনেকে ৯ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য ১৮ লাখ টাকার একটি চেকে শরীফের বাবা সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষর রাখা হয়। ৯ লাখ দেওয়ার পর ওই চেক ফেরত দেওয়া হবে বরে জানা গেছে। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান ছাত্রলীগ নেতা শরীফ মাহমুদ সান।

কনের বাবার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনা হয়েছে, তাতে আমরা খুবই মর্মাহত। এমন ঘটনা যাতে আর কারোর সঙ্গে না ঘটে।

বাশতৈল ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন খানের বলেন, ছাত্রলীগ নেতা নিজের বিয়ে ভাঙতে গিয়ে এ ধরনর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা দু’পক্ষ নিয়ে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বরপক্ষকে ৯ লাখ জরিমানা করা হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান ছাত্রলীগ নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *