অস্ট্রেলিয়ায় আইনজীবীকে বলা হয় ব্যারিস্টার। বিভিন্ন দেশে আইনজীবীকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। ‘ব্যারিস্টার অ্যাট ল’র সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ‘বার অ্যাট ল’। এই কোর্সটি ইংল্যান্ডের চারটি ইনসের (লিংকনস্ ইন, গ্রেইসইন, ইনার টেম্পল ও মিডল টেম্পল) যেকোনো একটি থেকে করতে হয়।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের এই ‘বার অ্যাট ল’ ডিগ্রি ভুয়া উল্লেখ করে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ভারতে পালিয়ে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থীর স্ট্যাটাসে এই ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মিডল টেম্পলকে পাঠানো একটি ই-মেইলও যুক্ত করা হয়েছে। তবে রাব্বানীর এই অভিযোগ উড়িয়ে প্রমাণ দিয়ে ফেসবুকের এক স্ট্যাটাস দিয়েছন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু।
স্ট্যাটাসে তিনি বলছেন, এটা আমি পজিটিভ হিসেবে দেখছি। ফুয়াদকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার ব্যাপারে জনগণের আগ্রহ আছে এবং সবশেষে যখন প্রমাণিত হবে যে ফুয়াদের (আসল নাম মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া) বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার হয়েছে। তখন তার পজিশন আরও হাই হবে ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।
জানা গেছে, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের এই ‘বার এ্যাট ল’ ডিগ্রির বিষয়ে জানতে মিডল টেম্পলকে একটি ই-মেইল করেন। সেখানে ব্যারিস্টার ফুয়াদের পরিচয় ‘আসাদুজ্জামান ফুয়াদ’ অথবা ‘ফুয়াদ আবদুল্লাহ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিউত্তরে মিডল টেম্পল জানায়, ‘আসাদুজ্জামান ফুয়াদ’ অথবা ‘ফুয়াদ আবদুল্লাহ’ নামে কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই।
তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ফুয়াদ ব্যারিস্টারি পাশ করার পর এক যুগেরও বেশি সময় ইউকেতে মেইনস্ট্রিম ‘ল’ প্র্যাক্টিস করেছে। এটার প্রতিবাদ বা প্রমাণ তার সহপাঠী বন্ধুরাই দিবে। আমরা এটার জবাব দেয়ার দরকার মনে করছি না।
স্ট্যাটাসে তিনি ‘সোসাইটি অব মিডল টেম্পলের’ একটি ই-মেইলও সংযুক্ত করেছেন। ‘সোসাইটি অব মিডল টেম্পলের’ সেই ই-মেইলে বলা হয়, ২০০৮ সালে ২৯ অক্টোবর ফুয়াদ (আসল নাম মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া) প্রতিষ্ঠানটিতে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
অপর এক অনুষ্ঠানে গতকাল ব্যারিস্টার ফুয়াদ নিজেই তার পড়াশোনা ক্যারিয়ার নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন ফুয়াদ।
ফুয়াদ জানান, চাকরি সূত্রেই আমার বাবা ৬৭ থেকেই বরিশালের বাহিরে। ওনি বিএম কলেজে বাম রাজনীতি করতেন। তোফায়েল চাচা এবং আব্বা একই ব্যাচের উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ৬৭ সালে বিয়ে করে ঢাকায় চলে গেছেন। বাবা যুদ্ধ করেছেন এবং পরবর্তীতে জাসদ করেছেন। এই হল বাবার পরিচয়।
আমার জন্ম খুলনাতে। আব্বা জুট মিলে চাকরি করতেন, সেই সুবাদে আমার জন্ম সেখানে। বসের সাথে বনিবনা না হওয়াতে আব্বা একদিনের মধ্যে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং আমরা এক দিনের মধ্যে স্টিমারে বাড়িতে চলে আসি। এই টাইপের মানুষ ছিলেন আব্বা।
আমাদের বাড়িতে একটা প্রাইমারি স্কুল আছে ওখানে আমি কয়েক মাস পড়েছি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ওখানে আমি ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টফুল বৃত্তি পেলাম। তারপর মাধবপাশা স্কুলে আমি আড়াইমাস পড়েছি সিক্স, সেভেন এবং এইট এর জুন-জুলাই পর্যন্ত। তো সেখানেও আমি জেলাতে ফাস্ট হয়েছি। এরপর ইন্টারমিডিয়েট করেছি ঢাকা কলেজ থেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র ছিলাম উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়া অবস্থায় সেকেন্ড ইয়ারে ইংল্যান্ড চলে গিয়েছি ২০০১ এ। ইংল্যান্ড গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে ‘ল’ তে পড়াশোনা করেছি। ওখান থেকে ‘বার অ্যাট ল’ করলাম ২০০৮ এ । এরপর আমি লন্ডনে সাড়ে ১১ বছর প্র্যাকটিস করেছি। প্রাকটিস করে ২০১৯ এ দেশে ফিরে এসেছি।